
থানার ভেতরে বিচারপ্রার্থী মা-মেয়েকে শাররীক নির্যাতন পরবর্তী ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে একমাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় অবশেষে অভিযুক্ত
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুব আলম মাহবুবকে বদলি করা হয়েছে। তাকে বান্দরবানের রুমা উপজেলায় ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
গত ৪ মার্চ বুধবার বিকেলে পেকুয়া থানায় ডেকে নিয়ে বিচারপ্রার্থী রেহেনা মোস্তফা (৪২) ও তাঁর মেয়ে জুবাইদা বেগমকে (২১) নির্যাতনের পর ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এক মাস করে সাজা দিয়েছিলেন ইউএনও। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলেন। এরই প্রেক্ষিতে সোমবার ১৬ মার্চ চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোতাহার হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে পেকুয়ার ইউএনও মাহবুব আলম মাহবুবকে বদলীর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
প্রজ্ঞাপনের একই আদেশে বান্দরবানের রুমা উপজেলার ইউএনও এমদাদুল হক শরীফকে পেকুয়া উপজেলার নতুন ইউএনও হিসেবে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী বিচারপ্রার্থী জোবাইদা বেগমের কৌশলী চকরিয়া চৌকি আদালতের আইনজীবী এডভোকেট মিজবাহ উদ্দীন বলেন, ইউএনও পুলিশ হেফাজতে থাকা আহত মা-মেয়ের ওপর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে পারেন না। এটি আইনের ব্যত্যয়।
অন্যদিকে নির্যাতিত রেহেনা মোস্তফা দাবি করেছেন, ওই দিন আমাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মুখোমুখিই করা হয়নি। অভিযোগ গঠনের কাগজে আমার স্বাক্ষর জালিয়াতি করেছেন ইউএনও। আমাকে এবং আমার মেয়েকে ভুয়া সাজা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, দায়িত্ব পালনকালে পেকুয়া উপজেলার ইউএনও মাহবুব আলম মাহবুব বিভিন্ন বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে পড়েন। অনৈতিকভাবে এক মা–মেয়েকে সাজা দেওয়া, প্রকাশ্যে পাহাড় কাটার ঘটনায় ব্যবস্থা না নেওয়া সহ নানা অভিযোগ নিয়ে সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।




