👤 নিজস্ব প্রতিবেদক, চকরিয়া
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মালুমঘাটের পশ্চিম ডুমখালীর একটি মৎস্যঘের থেকে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার ভোরে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত ব্যক্তির নাম মঞ্জুর আলম ওরফে কালু (৫৫)। তিনি ডুমখালী এলাকার মৃত জাফর আলমের ছেলে।
নিহতের পরিবারের লোকজন দাবি করছে, এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা বড় ডুমখালী ঘোনা নামক মৎস্যঘেরে হানা দিয়ে ঘের মালিক মঞ্জুর আলমকে পিটিয়ে ও পানিতে চুবিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে। তবে পুলিশ বলছে, মঞ্জুর আলমের শরীরে আঘাতের চিহ্ন নেই। তারপরও যেহেতু মৃত্যু ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে; তাই লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত মঞ্জুর আলমের বড় ভাই জামাল হোসাইন বলেন, ডুলাহাজারা ইউনিয়নের চিংড়ি জোনের বড় ডুমখালী ঘোনায় তাঁদের মালিকানাধীন চার একরের একটি মৎস্যঘের রয়েছে। সেই ঘেরের দখল নিতে বেশ কয়েকবার সন্ত্রাসীরা হামলা করে। তখন ঘের থেকে চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও মূল্যবান সরঞ্জাম লুট করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ অবস্থায় সন্ত্রাসীরা আরও বেপরোয়া হয়ে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে মৎস্যঘেরে ফের হানা দেয়। এ সময় ঘেরের খামার বাড়িতে অবস্থান করা আমার বড়ভাই মঞ্জুর আলমকে ধাওয়া দিয়ে পাশের খালে নিয়ে যায়। সেখানে পিটিয়ে ও পানিতে চুবিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
তবে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, মৎস্যঘেরের কাছের খালের পাড় থেকে মঞ্জুর আলম নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহের কোথাও আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলার পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি বলেন, একটি সন্ত্রাসী বাহিনী মৎস্য ঘেরে হামলা করে বিভিন্ন সময়ে মাছ ও সরঞ্জাম লুট করেছে বলে আমাদের কাছে অভিযোগ আছে। ইতিমধ্যে আমরা পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছি। মঞ্জুরের মৃত্যুর সঙ্গে সেই বাহিনীর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সন্ত্রাসীদের ধরতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।