
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের চার তরুণীর বিয়ে দিয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান কামাল হোছাইন। আজ শনিবার দুপুরে তাঁর বাড়ির উঠানে এসব তরুণীর বিয়ের আয়োজন করেন। বিয়ে উপলক্ষে বরপক্ষের লোকজন ছাড়াও এলাকার অন্তত দেড় হাজার মানুষকে খাওয়ানোর আয়োজন করা হয়। প্রতিটি দম্পতিকে উপহার হিসেবে ফার্নিচার সেট, আলমিরা, হাঁড়ি পাতিল সবই দেয়া হয়েছে।
২০২১ সালের ২৮ নভেম্বরে অনুষ্ঠিত শিলখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন কামাল হোছাইন। সরাসরি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না হলেও তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য জাফর আলমের ঘনিষ্ঠ ছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পেকুয়া উপজেলার সাত ইউনিয়নের মধ্যে পাঁচটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে বরখাস্ত করা হয়। তাঁদের মধ্যে শিলখালী ইউপি চেয়ারম্যান কামাল হোছাইনও রয়েছেন।
কামাল হোছাইন বলেন, ২০২৪ সালের ৩১ মে চারজন এতিম ও দুস্থ কিশোরীর বিয়ে দিয়েছিলাম। এবার আরও চারজন তরুণীর বিয়ের আয়োজন করেছি।
চার তরুণীর বাড়ি শিলখালী ইউনিয়নের কাছারীমোড়া, চেপ্টামুড়া, জারুলবনিয়া ও দক্ষিণ জুম এলাকায়।
একজন তরুণীর মা বলেন, অর্থাভাবে আমার মেয়েটির বিয়ে দিতে পারছিলাম না। চেয়ারম্যান সাহেব এগিয়ে এসে মেয়েটির বিয়ে দিলেন। একজন মেয়েকে তাঁর বাবা-মা যেভাবে বরপক্ষের কাছে তুলে দেন তেমনিভাবে চেয়ারম্যান সাহেব অভিভাবক হয়ে তাঁদের হাতে তুলে দিয়েছেন।
আরেকজন তরুণীর বাবা মারা গেছেন দুই বছর আগে। তাঁর মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্তে চট্টগ্রামের এক ছেলের সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয়। কিন্তু বাবা মারা যাওয়ায় ছেলের পরিবারকে উপহারসামগ্রী দিতে পারছিলেন না। একারণে বিয়েটি আটকে যায়। ওই তরুণীর মা বলেন, ‘চেয়ারম্যান কামাল হোছাইন বিষয়টি জানতে পেরে আমার ঘরে গিয়ে মেয়েকে পাত্রস্থ করার প্রতিশ্রুতি দেন। সে অনুযায়ী আজ বাবার ভুমিকায় আমার মেয়েকে পাত্রের হাতে তুলে দিয়েছেন। আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ।’
শিলখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান কামাল হোছাইন বলেন, ‘বাবা নেই, দুস্থ-এমন মেয়েদের বাছাই করে বিয়ের ব্যবস্থা করেছি। ভবিষ্যতে এই ধারা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবো।’





