Search
Close this search box.
Search
Close this search box.

চকরিয়া হারবাংয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাহাড় কাটা দখলবাজ চক্রের নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের উত্তর হারবাং ব্রিকফিল্ড এলাকায় দখলবাজ চক্র কতৃক পাহাড় কেটে সমতল ভূমি বানিয়ে সেখানে তৈরি করা একাধিক অবৈধ স্থাপনা ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গতকাল সোমবার বিকালে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) রুপায়ন দেবের নেতৃত্বে আদালত এ অভিযান পরিচালনা করেন।

এসময় হারবাং ইউনিয়ন ভুমি তহসিলদার মোহাম্মদ আবুল মনছুর, ভ্রাম্যমাণ আদালতের পেশকার ও ভুমি অফিসের নাজির মনির হোসেন, চকরিয়ার হারবাং পুলিশ ফাড়ির একটি টিম এবং আনসার বাহিনীর সদস্যরা আদালতের অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন।

চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) রুপায়ন দেব বলেন, গেল রমজান মাসের আগে স্থানীয় কতিপয় দখলবাজ চক্রের সদস্যরা মিলেমিশে উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের উত্তর হারবাং সরকারি আশ্রয়নের জায়গার পাহাড় কেটে রাতের আঁধারে মাটি লুট করে নিয়ে যায়। পরে সমতল ভূমিতে পরিনত করা ওই জায়গায় দখলবাজরা প্লট বানিয়ে কৌশলে বেশকটি অবৈধ স্থাপনা তৈরি করে।

পরে বিষয়টি জানতে পেরে হারবাং ইউনিয়ন ভুমি তহসিলদারসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি। সেসময় চকরিয়ার ইউএনও শাহীন দেলোয়ার সরকারি সেমিনারে অংশগ্রহণে দেশের বাইরে ছিলেন। এরইমধ্যে কর্মস্থলে ফেরার পর ইউএনও শাহীন দেলোয়ার ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা দেন। এরই প্রেক্ষিতে সোমবার বিকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালিয়ে দখলবাজ চক্র কতৃক পাহাড় কেটে সমতল ভূমিতে তৈরি করা একাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়েছে। তবে ওইসময় ঘটনাস্থলে জড়িত চক্রের কাউকে পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, সরকারি সেমিনারে অংশগ্রহণ শেষে কর্মস্থলে ফেরার পর বিষয়টি নিয়ে অবগত হই। পরে ঘটনাস্থল সরকারি আশ্রয়নের সরকারি জায়গা জবরদখল মুক্ত করতে এবং পাহাড় কেটে মাটি লুটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে উপজেলা সহকারী কমিশনারকে নির্দেশ দিই।

তিনি বলেন, সোমবার ঘটনাস্থলে পৌঁছে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে তৈরি করা অবৈধ স্থাপনা সমুহ ভেঙে উচ্ছেদ করে দিয়েছেন। এখন সরকারি আশ্রয়নের পাহাড় কাটার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, হারবাংয়ে সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের জায়গার পাহাড় কেটে মাটি লুটের ঘটনায় চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রতিবেদন পাওয়া মাত্র জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, রোজার মাসের আগে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের ১ নম্বর খাস খতিয়ানের অধীন চকরিয়া উপজেলার হারবাং মৌজার বিএস ১৬৫১৩ দাগের আওতাধীন আশ্রয়ন প্রকল্পের জায়গার পাহাড় কেটে ওই জায়গাটি সমতল ভূমিতে পরিনত করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানিয়েছে, স্থানীয়ভাবে বেশ দাপটশালী বালুদস্যু নাজেম উদ্দিন, আবদুল খালেক, জসীম উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট শক্তিশালী এক্সেভেটর গাড়ি দিয়ে দিবারাত্রি ওই পাহাড় কেটে লক্ষাধিক ঘনফুট মাটি লুটের মাধ্যমে পুরো পাহাড়ের জায়গা সমতল ভূমিতে পরিনত করেছে।

অভিযোগ উঠেছে, পাহাড় কেটে মাটি লুটের ঘটনায় প্রশাসনিক কোনধরনের ব্যবস্থা না নেয়ায় জড়িতরা ফের বেপরোয়া হয়ে উঠে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে
পরে তাঁরা পাহাড় কেটে সমতল করা ওই জায়গা প্লট ভিত্তিক বিক্রি করে সেখানে বাঁশ কাঠ দিয়ে অস্থায়ীভাবে নতুন স্থাপনা তৈরির কাজও শুরু করে।

সরজমিনে জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের উত্তর হারবাং ব্রিকফিল্ড এলাকায় ইতোপূর্বে উপজেলা প্রশাসন থেকে সরকারি এক নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত পাহাড় শ্রেণির এই জায়গার পাদদেশে আশ্রয়ণ প্রকল্প তৈরি করে সেখানে অন্তত ১০টি ভুমিহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

ওই আশ্রয়নের পাশে ওই পাহাড়ের ঢালুতে আরও কিছু পরিবার অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করে বসবাস করে আসছিলেন। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে অভিযুক্ত দাপুটে দখলবাজ চক্র স্থানীয় বসবাসরত লোকজনকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়ে পাহাড়টি কেটে সাবাড় করে দিয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে চলতি বর্ষা মৌসুমে কেটে নেওয়া পাহাড় সংলগ্ন এলাকায় ভয়াবহ পাহাড় ধসের উদ্বেগ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাসরত বাসিন্দাদের মাঝে। এতেকরে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় প্রাণহানির আশঙ্কাও করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

হারবাং ইউনিয়ন ভূমি অফিস তহসিলদার মো. আবুল মনছুর বলেন, হারবাং ব্রিকফিল্ড এলাকার আশ্রয়ণ প্রকল্পের জায়গার পাহাড় কেটে মাটি লুটের খবর পেয়ে বেশ কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে। পাহাড় কাটা রোধ করতে নিয়মিতভাবে বিকেল থেকে রাত আটটা–নয়টা পর্যন্তও সেখানে অবস্থান করি। কিন্তু জড়িতরা আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে মধ্যরাত থেকে ভোররাত পর্যন্ত পরিবেশ বিধংসী তৎপর থাকায় পাহাড়টি রক্ষা করা যায়নি।

তবে পাহাড় কেটে মাটি লুট এবং ওই জায়গা সমতল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে স্থানীয় বালুদস্যু নাজেম উদ্দিন, আবদুল খালেক, জসীম উদ্দিনসহ আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা রুজুসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনে চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভুমি) কাছে ওইসময় জানানো হয়।

0Shares