
কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার বাটাখালী এলাকায় এক প্রবাসীর বসতঘরে ডাকাতির ঘটনায় বিএনপির তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ রোববার ভোরে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন চকরিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. নয়ন চৌধুরী (৪৫), ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল (৩৫ ও বিএনপি কর্মী মো. হানিফ (৪৩)। নয়ন চকরিয়া পৌরসভার উত্তর কাহারিয়াঘোনার খোন্দকারপাড়ার মৃত নুরুল আমিনের ছেলে, ইসমাইল উত্তর কাহারিয়াঘোনার ঘাটপাড়ার কবির আহমদের ছেলে ও হানিফ দক্ষিণ বাটাখালী এলাকার মৃত মমতাজ উদ্দিনের ছেলে।
চকরিয়া পৌরসভা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মনোহর আলম গ্রেপ্তার নেতাদের পদবী নিশ্চিত করেছেন।
চকরিয়া থানার পুলিশ ও ডাকাতির শিকার বসতঘরের পরিবারের সদস্যরা বলেন, গত শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বাটাখালী এলাকার বাসিন্দা সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী শ্রীমন্ত দাশের বসতঘরে ডাকাতি সংঘটিত হয়। এসময় ছয় সদস্যের ডাকাতদল বাড়ির দারোয়ান রবি দাশকে (৫০) গলায় ছুরি ধরে বাড়ির গেট খুলকে বাধ্য করে। পরে তাঁর হাতে ও পায়ে ছুরিকাঘাত করে ভয় দেখিয়ে শ্রীমন্তের বসতঘরে ঢুকে ডাকাতদলের সদস্যরা । ডাকাত সদস্যরা পরিবারের সদস্যদের গলায় ছুরি ধরে জিম্মি করে তিন ভরি স্বর্ণ, চার ভরি রুপা ও নগদ ১২ হাজার টাকা ডাকাতি করে নিয়ে যায়।
শ্রীমন্তের স্ত্রী রুবি দাশ বলেন, পরিবারে কোনো পুরুষ সদস্য নেই। ডাকাত সদস্যরা পরিবারের নারী সদস্যদের গলায় ছুরি ধরে সব লুট করে নিয়ে গেছে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, গতকাল শনিবার সকালে খবর পাওয়ার পর পুলিশের একাধিক দল ডাকাতির ঘটনা কারা ঘটিয়েছে তা উদ্ঘাটনের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কয়েকজনকে সনাক্ত করা হয়। পরে হানিফ, নয়ন ও ইসমাইলকে গ্রেপ্তার করা হয়। নয়নের স্বীকারোক্তি মতে তাঁর শয়নকক্ষের ফ্রিজের পেছনে লুকিয়ে রাখা ১০ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
ওসি বলেন, প্রবাসী শ্রীমন্তের স্ত্রী রুবি দাশ বাদী হয়ে আজ রোববার ডাকাতির ঘটনায় একটি মামলা করেছে। গ্রেপ্তার তিনজনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আজ রোববার দুপুরে আদালতে তোলা হলে আদালত তাঁদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এছাড়া লুণ্ঠিত স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মালামাল উদ্ধার এবং ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে পুলিশ চেষ্টা করছে।