Search
Close this search box.
Search
Close this search box.

পেকুয়ার অপহৃত তিনজন পটিয়া থেকে উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের পূর্ব বাকখাইন এলাকা থেকে অপহৃত তিন যুবককে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এসময় অপহরণকারী চক্রের এক সদস্যকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে কক্সবাজারের পেকুয়া থানা পুলিশ অপহৃতদের উদ্ধার ও অপহরণকারী চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করে।

উদ্ধার যুবকেরা হলেন পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বুধামাঝিরঘোনা এলাকার মৃত আবু তাহেরের ছেলে আবদুল্লাহ আল নোমান (২৪), একই এলাকার রহিম উদ্দিনের ছেলে মো. রাইমন (২৪) ও রামু উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নের বড় ধলিরছড়া এলাকার ছিদ্দিক আহমদের ছেলে মনজুর আলম (২৪)।

গ্রেপ্তার অপহরণকারী চক্রের সদস্য মোহাম্মদ ইলিয়াছ (২৫) পটিয়া উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের পূর্ব বাকখাইন এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

অপহৃত যুবকদের পরিবারের লোকজন বলেন, আব্দুল্লাহ আল নোমান চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জারটেক এলাকায় একটি খাবারের দোকান করেন। ওই দোকানে চাকরি করেন রাইমন ও মনজুর। গত রোববার বিকেলে নোমান, রাইমন ও মনজুর সিএনজি চালিত একটি অটোরিকশায় চড়ে পেকুয়া থেকে মইজ্জারটেক যাচ্ছিলেন। বারবাকিয়া রাস্তার মাথায় পৌঁছালে কিছু ব্যক্তি তিনজনকে আরেকটি মাইক্রোবাসে তুলে নেন। এরপর তাঁদের পটিয়ার একটি ডেরায় নিয়ে যাওয়া হয়। রোববার রাতে তিনজনকে ব্যাপক নির্যাতন করা হয়। সোমবার ভোরে স্থান পরিবর্তন করে আরেকটি ডেরায় নেওয়া হয়। পরে অপহরণকারীরা নোমানের পরিবারের সদস্যদের ফোন করে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। অপহরণকারীদের বিকাশ নম্বরে নোমানের পরিবার ১০ হাজার, ২০ হাজার টাকা করে মোট ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করে। এদিকে নোমানের পরিবার পেকুয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে।

পেকুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন বলেন, অপহৃত যুবকদের উদ্ধারে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান সনাক্ত করা হয়। আজ মঙ্গলবার ভোরে পটিয়ার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের পূর্ব বাঁকখাইন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত তিনজনকে উদ্ধার ও একজন অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় অপহরণকারী চক্রের তিন সদস্য পালিয়ে গেছেন।

এসআই রুহুল আমিন বলেন, অপহরণের ঘটনায় অপহৃত নোমানের ভাই মো. রফিক বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার অপহরণকারী চক্রের সদস্য ইলিয়াছকে আজ বিকেল আড়াইটার দিকে চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়। অধিকতর তদন্তের স্বার্থে ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হলে আদালত শুনানি শেষে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

অপহরণকারীদের ডেরা থেকে উদ্ধার আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, অপহরণের পর রোববার রাতে তাঁদের ব্যাপক মারধর ও নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে অপহরণকারীরা ইচ্ছের বিরুদ্ধে নাচতে বাধ্য করেছে। ওরা গান ছেড়ে দিয়ে নাচতে বলে। না নাচলে মারধর করে। রাতে ও দিনে বিভিন্ন কায়দায় নির্যাতন করেছে অপহরণকারীরা। টাকা দিলে কিছুক্ষণ নির্যাতন বন্ধ করে। আরও টাকার জন্য আবার নির্যাতন করে।

2Shares