Search
Close this search box.
Search
Close this search box.

ইচ্ছেকৃত ফেল করিয়ে দেয়ার অভিযোগ তুলে মহাসড়ক অবরোধ শিক্ষার্থীদের

নির্বাচনী পরীক্ষায় ইচ্ছেকৃত ফেল করিয়ে দেয়ার অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে চকরিয়া সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবার দুপুর ১২টার দিকে চকরিয়ায় সরকারি কলেজের সামনে এ বিক্ষোভ করে তারা। এসময় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারমুখী অনেক যানবাহন আটকা পড়ে। পরে চকরিয়া থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

এ সময় শিক্ষার্থীরা ফেল করা ছাত্র-ছাত্রীদের পাস করে ফল দেওয়ার দাবি জানান। কলেজের অধ্যক্ষ তাদের দাবী বিবেচনার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। 

চকরিয়া সরকারি কলেজ সূত্র জানায়, চকরিয়া সরকারি কলেজের এইচএসসি দ্বাদশ শ্রেণীর নিয়মিত ও অনিয়মিত ১০৫০ জন শিক্ষার্থী সম্প্রতি নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগে ৬৯ জন, মানবিকে ১১০ ও ব্যবসায় শিক্ষায় ১০৯ জন শিক্ষার্থী পাস করে।  ফেল করে ৬৪০ জন শিক্ষার্থী। 

ফারজানা কাশেম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ২৪ ঘন্টার মধ্যে ফলাফল দুইবার পরিবর্তন করা হয়েছে। যে শিক্ষার্থী ৩০ মিনিট লিখে খাতা জমা দিয়ে বের হয়ে গেছেন তিনি পাস করেছেন। এমন শিক্ষার্থীও পাস করেছে যে শিক্ষার্থী পরীক্ষার হলে গিয়ে জিজ্ঞেস করে আজ কী পরীক্ষা। একজন শিক্ষার্থী মাত্র দুটি বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন ওই শিক্ষার্থী প্রকাশিত ফলাফলে সব বিষয়ে পাস করে ফেলেছে। এসব কিভাবে সম্ভব? আমাদের পাস করাবে কী করাবে না সেটা কর্তৃপক্ষের বিষয় কিন্তু আমরা উপরোক্ত জবাবগুলো চাই। এজন্য সড়ক অবরোধ করেছি।

এক শিক্ষার্থী বলেন, নির্বাচনী পরীক্ষায় প্রথম বার প্রকাশিত ফলাফলে আমি পাস করেছি। কিন্তু দ্বিতীয়বার সংশোধিত ফলাফলে আমার নাম নেই। আমাকে অকৃতকার্য দেখানো হয়েছে। এরকম অনেক শিক্ষার্থী প্রথমবারে পাস করলেও পরে তাকে অকৃতকার্য হিসেবে দেখানো হয়েছে। তাই আমরা এই ফলাফল বাতিলের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে ফলাফল পুনঃবিবেচনার দাবি জানাচ্ছি।

নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থী বলেন, গত ৫ আগস্টের আগে ও পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় কলেজ বন্ধ, নিয়মিত ক্লাস না হওয়া, শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতিসহ সব কিছু মিলিয়ে লেখাপড়া করতে না পারায় নির্বাচনী পরীক্ষা তেমন ভাল করতে পারেনি শিক্ষার্থীরা। তাছাড়া খাতা নিরীক্ষণে শিক্ষকদের কড়াকড়ির কারণে এই ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে। এদিকে দুইবার ফলাফল ঘোষণা কলেজ কর্তৃপক্ষের অবহেলা বলেও মনে করছেন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করা শিক্ষার্থীরা।  

চকরিয়া সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নুসরাত জাহান বলেন, বিষয়টি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাছাড়া নির্বাচনী পরীক্ষা পরিচালনায় একটি কমিটি রয়েছে। তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

20Shares