
২০২৩ সালে স্থানীয় এক বিরোধের ঘটনায় ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনা মিশিয়ে ওই বছরের ২০ আগস্ট একটি মামলা দায়ের করেন হালিশহরের মুন্সী পাড়া এলাকার বাসিন্দা সাজ্জাদ আহমেদ সাদ্দাম। ওই মামলায় আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়। মোট ৩১ জন আসামির মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে বহু দূরের পটিয়া এলাকার দুজনকেও সেখানে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এর একজন স্থানীয় সাংবাদিক পটিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবেদুজ্জামান আমিরী। তিনি দৈনিক যুগান্তর ও দৈনিক পূর্বদেশের পটিয়া প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়া তিনি কর্ণফুলী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকও।
বুধবার (১৯ মার্চ) সন্ধ্যায় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) একটি টিম চট্টগ্রামের পটিয়া থানার মোড় এলাকা থেকে সাংবাদিক আবেদ আমিরীকে তুলে নিয়ে যায়। পরে রাত ১০টার দিকে তাকে চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর থানায় হস্তান্তর করা হয়। সেখানে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে হালিশহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে যৌথবাহিনী আবেদ আমেরীকে গ্রেপ্তার করে থানায় হস্তান্তর করেছে।’
আবেদ আমিরীর সহকর্মী সাংবাদিকরা অভিযোগ করেছেন, কথিত মামলায় পটিয়ার সাংবাদিক আবেদ আমিরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট তিনি চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে ভাঙচুর করেছেন। অথচ তিনি ওইদিন হালিশহরেই যাননি, সারাদিন ছিলেন পটিয়াতেই।
তারা বলেন, সাংবাদিক আমিরীকে হালিশহর থানার দায়ের করা মামলাটির বাদি চিনেনও না। বাদি নিজেও বলেছেন, ৪ আগস্টের ভাঙচুরের ঘটনায় আমিরী জড়িত নন। এরপরও আমিরী কিভাবে ওই মামলায় আসামি হলেন— এ নিয়ে নানা গুঞ্জন রয়েছে। তবে তার স্বজনরা বলছেন, পটিয়ারই কেউ ষড়যন্ত্র করে আমিরীর নামটি হালিশহরের মামলায় ঢুকিয়ে দিয়েছেন।