
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের গোদারপাড় থেকে ৮টি মামলার পলাতক আসামি আরফাত উদ্দিনকে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার বিকেল চারটার দিকে পেকুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিনের নেতৃত্বে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আরফাত উজানটিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াদ চৌধুরীর বড়ভাই এবং স্থানীয় কফিল উদ্দিনের ছেলে। এছাড়া পেকুয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলাম চৌধুরীর ভাতিজা। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক তৈরি করা জলদস্যু তালিকায় নাম রয়েছে আরফাত উদ্দিনের।
স্থানীয় লোকজন জানায়, আরফাত উদ্দিন ছাত্রলীগের নেতা রিয়াদের প্রভাব খাটিয়ে ও বখতিয়ার-শহীদের ছত্রচ্ছায়ায় উজানটিয়া ইউনিয়নে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। কেউ লবণ মাঠ, চিংড়ি ঘের, মৎস্য ঘের ও ধান চাষ করলে আরফাতকে চাঁদা দিতে হয়। এমনকি তাঁর আপন চাচা মিজবাহ উদ্দীন চৌধুরীর কাছ থেকেও চাঁদা নিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় চাঁদাবাজির ধারায় মামলাও হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এতেও ক্ষান্ত হননি আরফাত। মিজবাহ উদ্দীনের বাড়িঘরে হামলা করে তাঁর বিভিন্ন সম্পত্তি দখল করে নিয়েছেন তিনি।
পেকুয়া থানার পুলিশ জানায়, আরফাতের বিরুদ্ধে সাগরে দস্যুতা করার অভিযোগ রয়েছে। তিনি তালিকাভুক্ত জলদস্যু। এছাড়া মারামারি, জায়গা দখল, চাঁদাবাজি, হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন ধারায় আটটি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় আরফাত দীর্ঘদিন ধরে পলাতক। তাকে ধরতে পুলিশ একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করেছে। কিন্তু কোনোভাবে তাকে পাকড়াও করা যাচ্ছিল না। সর্বশেষ পুলিশ বিভিন্ন গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
সম্প্রতি উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলাম চৌধুরী ও আরাফাতের নেতৃত্বে উজানটিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সহসভাপতি মিজানুর রহমানের ওপর হামলা করা হয়। এরপর আরাফাতের নাম আবারও নতুন করে আলোচনায় আসে। জামায়াত নেতা মিজানুর রহমান বাদি হয়ে শহিদুল ইসলাম চৌধুরী,আরফাত উদ্দিন, রিয়াদ চৌধুরী, কাফি চৌধুরীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে পেকুয়া থানায় মামলা রুজু করেন।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সিরাজুল মোস্তফা বলেন, আরাফাত পেশাদার সন্ত্রাসী। তাঁর বিরুদ্ধে আটটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে। এছাড়া সম্প্রতি দায়ের হওয়া জামায়াত নেতার ওপর হামলা মামলারও আসামি তিনি। রোববার তাকে চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হবে।