👤 মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার দাবিতে আগামীকাল রোববার (৩০ নভেম্বর) সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ সর্বাত্মক ব্লকেড পালনের ঘোষণা দিয়েছে ‘চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক উন্নয়ন আন্দোলন’। দীর্ঘদিনের দুর্ঘটনা, স্থায়ী যানজট ও ভোগান্তির প্রতিবাদে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
ব্লকেড ঘিরে সাতকানিয়ার কেরানীহাট, লোহাগাড়ার আমিরাবাদ ও চকরিয়ার মাতামুহুরি ব্রিজ এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি নেওয়া হবে। মানবিক বিবেচনায় অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, বিমানবন্দরমুখী গাড়ি, পরীক্ষার্থী ও চিকিৎসাসেবাসহ জরুরি সরকারি যানবাহন ছাড় দেওয়া হবে।
‘মরণফাঁদ মহাসড়ক’: তিন জেলার মানুষের ক্ষোভ চরমে
দক্ষিণ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং বান্দরবান অঞ্চলের কোটি মানুষের প্রধান সংযোগপথ এই মহাসড়ক। প্রতিদিনের দুর্ঘটনা, দীর্ঘ যানজট ও সীমাহীন দুর্ভোগের কারণে বহুদিন ধরেই এটি ‘মরণফাঁদ মহাসড়ক’ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় মানুষ, ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা এবার একযোগে সড়ক উন্নয়নের দাবি তুলেছেন।
এ দাবিকে কেন্দ্র করে শনিবার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে একটি পরামর্শসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বক্তারা মহাসড়কের অবকাঠামোগত সংকট, দুর্ঘটনার হার বৃদ্ধি এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘস্থায়ী ধীরগতির চিত্র তুলে ধরেন।
‘বছরের পর বছর শুধু আশ্বাস’: ক্ষোভ আন্দোলনকারীদের
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি বছরের পর বছর অনুমোদনের অপেক্ষায় ঘুরপাক খাচ্ছে। রাজনৈতিক পরিবর্তন, প্রশাসনিক জটিলতা ও টেন্ডার–সংক্রান্ত স্থবিরতায় কাজ এগোয়নি।
আন্দোলনের পক্ষে তামিম মির্জা বলেন, 'দ্রুত মহাসড়ক ছয় লেন না করলে দুর্ঘটনা কমবে না। ফিটনেসহীন গাড়ি ও লাইসেন্সবিহীন চালক বন্ধের ব্যবস্থা না নিলে প্রতিদিনের রক্তক্ষয় থামবে না। বহুদিন ধরে মানুষ শুধু আশ্বাস শুনছে; এবার দৃশ্যমান পদক্ষেপ চাই।'
সুশীল সমাজের প্রতিনিধি জাবেদ বলেন, এটা সড়ক উন্নয়নের দাবি নয়—এটা দক্ষিণ চট্টগ্রামের বাঁচা–মরার প্রশ্ন। অপেক্ষা করার সময় শেষ। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমেই এবার দাবি জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
স্থানীয় মানুষের সমর্থন বাড়ছে
ব্লকেডকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। সড়কে চলাফেরা করা সাধারণ মানুষও এই কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন।
এক কলেজ শিক্ষার্থী জানান, ২০ মিনিটের পথ যেতে ১ ঘণ্টা লাগে। প্রতিদিন রাস্তায় উঠলে মনে হয় ফিরতে পারব তো? এই উন্নয়ন জরুরি।
এক ট্রাকচালক বলেন, দুর্ঘটনা দেখেই বড় হয়েছি। রাস্তাটা প্রশস্ত না করলে সমস্যা যাবে না। ব্লকেড হলে আমরা সমর্থন করি।
কেরানীহাট ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধি হামিদ বলেন, এক দিনের ক্ষতি বড় কিছু না; উন্নত মহাসড়ক হলে প্রতিদিনের ক্ষতি থেমে যাবে। দাবি ন্যায়সঙ্গত।
প্রশাসনের আশ্বাস
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, ব্লকেড কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ রাখতে এবং সাধারণ মানুষের চলাচল যেন ব্যাহত না হয়—সেসব বিবেচনায় রেখে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রশাসন সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে বলে তিনি জানান।