
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া–লোহাগাড়া) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে আবারও ব্যস্ততম চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করেছেন মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যানের সমর্থকরা। মনোনয়ন না পেয়ে তার পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের এই ধারাবাহিক অবরোধে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির চরম মূল্য দিতে হচ্ছে।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সাতকানিয়ার ছদাহা ইউনিয়নের মিঠারদোকান এলাকায় গাছের গুঁড়িতে আগুন জ্বালিয়ে শুরু হয় অবরোধ। মুহূর্তেই মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়ে শত শত যাত্রীবাহী বাস, অ্যাম্বুলেন্স, পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন। এতে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার মতো সড়কে যানচলাচল বন্ধ থাকে।
কর্মস্থলগামী মানুষ থেকে শুরু করে চিকিৎসাসেবায় থাকা অসহায় রোগী—সবার কষ্ট যেন কেউ দেখার নেই।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান চেয়ারম্যানকে পাশ কাটিয়ে নাজমুল মোস্তফা আমিনকে মনোনয়ন দেওয়ায় তারা এ আন্দোলনে নেমেছেন। অবরোধ চলাকালে তারা বারবার আমিনের মনোনয়ন বাতিলের স্লোগান দেন।
সাতকানিয়া উপজেলা যুবদল কর্মী দেলোয়ার হোসেন বলেন, মুজিব ভাই দলের কঠিন সময়ে রাজপথে ছিলেন। তাকে বাদ দিয়ে অপরিচিত কাউকে মনোনয়ন দেওয়া আমরা মেনে নেব না।
এর আগেও ৪ ডিসেম্বর মনোনয়ন ঘোষণার দিন একই দাবিতে তারা সাতকানিয়ার ঠাকুরদিঘীর পেট্রোল পাম্প এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। দুই দিন ব্যবধানে একই নেতার সমর্থকদের এমন আচরণে স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ বাড়ছে।
দূরপাল্লার বাসচালকদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া
দূরপাল্লার শামলী বাসের চালক আবু বক্কর বলেন,
আমরা সারা দিন রাস্তায় পরিশ্রম করি। কিন্তু কারো মনোনয়ন না পাওয়ার জন্য মহাসড়ক বন্ধ করে রাখলে সবচেয়ে বেশি ভোগে সাধারণ মানুষ। রাজনীতি নিয়ে বিরোধ হোক, কিন্তু রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে জনগণের জীবনযাত্রা থামিয়ে দেওয়া অন্যায়।
সৌদিয়া বাসের চালক আব্দুল কাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই রাস্তায় দেশের হাজারো মানুষ চলাচল করে। এমন অবরোধে আমরা চালকরাও বিপদে পড়ি—গাড়ি আটকে থাকে, যাত্রীদের গালমন্দ শুনতে হয়, দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। যারা রাস্তা বন্ধ করে রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
মাইক্রোবাসের চালক জমাল উদ্দিন বলেন, সারা রাত-দিন ড্রাইভিং করি, কষ্ট করে জীবিকা চালাই। পথে এভাবে অবরোধ পড়লে আমরা যেমন বিপদে পড়ি, তেমনি অসুস্থ রোগী, বয়স্ক মানুষ, নারী-শিশুরাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে। এমন বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা যায় না। দায়ীদের শাস্তি চাই।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি সালাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, পুলিশ গিয়ে অবরোধ সরিয়ে নেয়। প্রায় আধঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকলেও কোনো যানবাহনে ভাঙচুর হয়নি।
মানুষের প্রশ্ন—একজন নেতার মনোনয়ন না পাওয়ার দায় কি পুরো এলাকার ওপর চাপানো উচিত?
স্থানীয়দের দাবি, মনোনয়ন নিয়ে অসন্তোষ থাকতে পারে, কিন্তু এজন্য বারবার দেশের ব্যস্ততম মহাসড়ক অবরোধ করে লাখো মানুষের জীবন থামিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মহাসড়ক অবরোধের কারণে জনভোগান্তির দায়ভার কে নেবে—এ নিয়ে চলছে তীব্র সমালোচনা। স্থানীয়দের মতে,
মুজিবুর রহমানকে মনোনয়ন না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ তার সমর্থকদের এই নির্বিচার অবরোধই পুরো এলাকার মানুষের দুর্ভোগের জন্য সরাসরি দায়ী।





