
কক্সবাজারের চকরিয়ায় পরিবেশ মানবাধিকারকর্মী, সাংবাদিক জনপ্রতিনিধিসহ অংশিজনের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) আয়োজিত “পরিবেশ, পরিবেশ আইন ও জলবায়ু ন্যায্যতা” শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী সেশন সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিকালে সমাপ্ত হয়েছে।
চকরিয়া উপজেলার ভরামুহুরীস্থ এসএআরপিভি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সমাপনী কর্মশালায় উপস্থিত থেকে পরিবেশ সংরক্ষণে পরিবেশ অধিদফতরের ভুমিকা, পরিবীক্ষন, সাংগঠনিক কাঠামো ও সীমাবদ্ধতা বিষয়ের উপর আলোচনা করেন কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা।
তিনি এসময় নানা কারণে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার বাস্তব চিত্র এবং সেন্ট মার্টিন দ্বীপের পরিবেশগত গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সামুদ্রিক কাছিম সেন্টমার্টিন দ্বীপটির পরিবেশগত ভারসাম্যের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেকারণে সামুদ্রিক কাছিমের প্রতি সবাইকে বিশেষ যত্নবান হতে হবে। তিনি পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা বোঝাতে যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কে নেকড়ে নিধনের ফলে সেখানে তৈরি হওয়া পরিবেশগত বিপর্যয়ের উদাহরণ তুলে ধরেন।
খন্দকার মাহমুদ পাশা সেমিনারে অংশিজনদের সামনে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-কে দেশের প্রধান পরিবেশ আইন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং পাহাড় কাটা সংক্রান্ত ২০১০ সালের সংশোধনী, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩, ২০১৩, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০২৩ ও ২০২১ সালের বিপজ্জনক ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
পাশাপাশি তিনি জাহাজভাঙা শিল্প ও চিকিৎসা বর্জ্য, বিশেষ করে একাধিকবার ব্যবহৃত সিরিঞ্জ থেকে সৃষ্ট পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যঝুঁকি বিষয়ে সতর্ক করেন।
টেকসই উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত না হলে কোনো উন্নয়নই টেকসই হতে পারে না। একই সঙ্গে তিনি কক্সবাজার জেলায় পরিবেশ অধিদপ্তরের কাঠামো, দায়িত্ব ও কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দেন এবং তুলনামূলকভাবে মৎস্য অধিদপ্তরের কার্যক্রমের প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেলা)-এর প্রোগ্রাম ও ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর এ. এম. এম. মামুন, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কর্মকর্তা সংকেত দেব, ক্যাম্পেইন অফিসার মোহাম্মদ সামি রহমান এবং ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স (বিটিএস)-এর প্রকল্প কর্মকর্তা মিফতাহ বিনতে ইউসুফ।





