Search
Close this search box.
Search
Close this search box.

ঈদগাঁওয়ে কৃষি জমির টপ সয়েল কাটা ও পরিবেশবিনাশী কর্মকান্ড বন্ধে আইনি নোটিশ

কক্সবাজারের ঈদগাঁওয়ে ফসলী জমির মাটি লুটের মাধ্যমে পরিবেশবিনাশী কার্যক্রম বন্ধে জেলা প্রশাসকসহ ৫ জনকে আইনী নোটিশ পাঠিয়েছেন তরুণ আইনজীবী এড. জুলকর জিল্লু। 

নোটিশে তিনি উল্লেখ করেন, আমি  একজন সচেতন নাগরিক ও ক্ষতিগ্রস্থ ভূমির মালিক হিসেবে আপনার সদয় অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিম্নোক্ত নোটিশ প্রদান করছি। তিনি উল্লেখ করেন গত ১৭/১২/২০২৫ ইং বিভিন্ন গণ মাধ্যমে প্রচারিত “ঈদগাঁওয়ে রাত নামলেই শুরু হয় ফসলি জমির মাটি লুট” শিরোনামে খবরে অনুরোদ্ধ হয়ে জনস্বার্থে আপনি নোটিশ গ্রহীতার প্রশাসনিক ঈদগাঁও উপজেলার ঈদগাঁও মৌজার অন্তর্ভুক্ত  ঈদগাঁও ইউনিয়নের মাইজপাড়ার ঝাইক্কাবিল ও জালালাবাদ ইউনিয়নের ধমকা বিল, পূর্ব ফরাজিপাড়া, পশ্চিম পালাকাটা, দক্ষিণ লরাবাক, উত্তর মোহনবিলা, বোয়ালখালী বিল’সহ বিভিন্ন গ্রামের ফসলি জমি থেকে গত কয়েক সপ্তাহ যাবৎ একদল অসাধু প্রভাবশালী ব্যক্তি ভূমিদস্যু আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে ভেকু (Excavator) মেশিনের সাহায্যে কৃষি জমির উপরিভাগের পৃষ্ঠমাটি (টপ সয়েল) অবৈধভাবে খুঁড়ে ট্রাক যোগে নিয়ে যাচ্ছে। 

ফলে জমির উর্বরতা শক্তি সম্পূর্ন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যা দীর্ঘমেয়াদি মারাত্মক ও বিরূপ প্রভাব তরান্বিত করার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। এছাড়া গভীর গর্ত করার ফলে পাশের আবাদি জমিগুলো ধসে পড়া’সহ চলতি শুষ্ক মৌসুমে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়া এবং খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। মাটির উপরিভাগের এই ৬-১০ ইঞ্চি স্তরেই প্রয়োজনীয়  পুষ্টিগুণ থাকে। তাই মাটি কেটে ফেলায় জমিগুলো স্থায়ীভাবে অনুর্বর হয়ে পড়ছে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন অবগত থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং অর্পিত দায়িত্ব পালনে অববেলার সামিল।

আশঙ্কাজনকভাবে চলমান এই কর্মকান্ড বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন উল্লেখ করে তিনি দাবী করেন, বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ৪ ও ৫ ধারা অনুযায়ী কৃষিজমি থেকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মাটিকাটা নিষিদ্ধ এবং ধারা ১৫ অনুযায়ী এই অপরাধের জন্য ২ বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড অথবা ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রন) আইন ২০১৩ এর ধারা ৫ অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের অনুমতি ব্যতিত কোন কৃষি জমির মাটি ইট ভাটায় ব্যবহার বা পরিবহণ করা দণ্ডনীয় অপরাধ।

কৃষি জমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহার আইন ( প্রচলিত নীতিমালা) অনুযায়ী কৃষি জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করা বা উর্বর মাটি অন্য কাজে ব্যবহার করা দণ্ডনীয় অপরাধ। 

কৃষি বিজ্ঞানী ও।গবেষকদের মতে, মাটির উপরিভাগের ৬-১০ ইঞ্চি কাটলে সেই জমির উর্বরতা ফিরে পেতে অন্তত ১০-১৫ বছর সময় লাগে যা রাষ্ট্রীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। 

পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুযায়ী মাটি কাটার ফলে যদি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয় বা প্রতিবেশ ব্যবস্থায় ক্ষতি হয় তবে পরিবেশ অধিদপ্তর ওই ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করতে পারে।

 নোটিশ গ্রহীতাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আইনী নোটিশ প্রাপ্তির ৭২ ঘন্টার মধ্যে সরেজমিনে তদন্তপূর্বক ভ্রাম্যমান আদালত (Mobile Court) পরিচালনার মাধ্যমে উক্ত অবৈধ মাটিকাটা বন্ধ, মাটিকাটায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি জব্দ, ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং অবৈধ মাটিকাটার সাথে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থাগ্রহণ করবেন।

অন্যথায় উপরোক্ত আইন সমূহ লঙ্ঘন করা সত্বেও কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে এটি The Constitution of Bangladesh এর Artical ৩১ (আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার) এবং Artical ৩২ (জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার) এর পরিপন্থী হিসেবে গণ্য হবে। এবং জনস্বার্থে ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার রক্ষার্থে বাংলাদেশ সংবিধানের ধারা ১০২ অনুযায়ী মহামান্য হাইকোর্টে “writ of Mandamus” দায়ের করতে বাধ্য হব। যার যাবতীয় আইনগত ফলাফল ও খরচ আপনার উপর বর্তাবে।

আইনী নোটিশটির অনুলিপি ঈদগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপ-পরিচালক পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ঈদগাঁও থানা, চেয়ারম্যান জালালাবাদ এবং চেয়ারম্যান ঈদগাঁও ইউনিয়ন বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।

0Shares