Search
Close this search box.
Search
Close this search box.

আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে কুমিরাঘোনা আখতরাবাদে মাহফিলে ইছালে সাওয়াব সম্পন্ন

লাখো লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমানের উপস্থিতিতে রাহবারে বায়তুশ শরফ আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ আবদুল হাই নদভী মা.জি.আ এর পরিচালনায় হৃদয়স্পর্শী বিশেষ আখেরী মোনাজাতের মধ্য দিয়ে বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ এর উদ্যোগে দক্ষিণ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার কুমিরাঘোনায় (আখতরাবাদ) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ৮৪তম বার্ষিক ইছালে সাওয়াব মাহফিল ১০ জানুয়ারী শনিবার বিকেল সম্পন্ন হয়ে়ছে।

দেশ, জাতি, মুসলিম উম্মাহর সুখ-শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে রাহবারে বায়তুশ শরফ পরিচালিত আখেরি মোনাজাত চলাকালে কুমিরাঘোনা আখতরাবাদ ময়দান থেকে ভেসে আসা লাখো মুসল্লির কান্নাজড়িত কন্ঠে আমিন, আমিন ধ্বনি আশেপাশের পরিবেশকে ভারী করে তোলে। মাহফিলের বিশাল প্যান্ডেলে তিলধারণের ঠাঁই ছিলো না। 

ফলে অসংখ্য মুসল্লিকে আশেপাশের বাড়ি ঘরের আঙিনায়, রাস্তার ধারে বসে পড়ে মোনাজাতে অংশ নিতে হয়। 

উল্লেখ্য, মাহফিলে ইছালে সাওয়াব বায়তুশ শরফ দরবারের সবচেয়ে শানদার মাহফিল। বায়তুশ শরফের প্রাণ প্রতিষ্ঠাতা হযরত শাহ মাওলানা মীর মুহাম্মদ আখতরুল কাদেরী প্রকাশ হযরত কেবলা (রাহ.) তরীকতের ভক্ত-অনুরক্ত এবং আপামর জনসাধারণের জন্য বার্ষিক ভ্রাতৃ-সম্মিলন স্বরূপ ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে বড়পীর হযরত মহিউদ্দন আবদুল কাদের জিলানী (রা:) এর স্মরণে ছৈয়্যদুনা গাউছে পাকের (রাহ.) এর ইছালে সওয়াব মাহফিলের প্রবর্তন করেন।

দুইদিন ব্যাপী মাহফিলে বিশেষায়িত ওলামা- মাশায়েখদের তাকরির ছাড়াও তরিকতে আলীয়া কাদেরিয়ার প্রশিক্ষণ ও যিকির আযকার অনুষ্ঠিত হয়। 

প্রথম দিবস ৯ জানুয়ারি জুমাবার রাতে হেদায়াতি বক্তব্যে রাহবারে বায়তুশ শরফ বলেন, বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নাহর বাইরে কোন শরীয়ত, তরিকত, হাকিকত, মারেফত নেই। রাসূল (সা.) যা পালন করতে আদেশ করেছেন এবং যা থেকে দূরে থাকতে নিষেধ করেছেন, তা আন্তরিকতার সাথে মানার নামই ঈমান, আকিদা এবং তরিকত। এক্ষেত্রে নিজ মন, মস্তিষ্কপ্রসূত কোরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোন তরিকা মানার সুযোগ নেই। 

তিনি বলেন, যুগে যুগে পথহারা মুসলমানদেরকে অন্ধকারের পথ থেকে দূরে সরিয়ে সিরাতে মুস্তাকিম পথে আহ্বান করার ক্ষেত্রে হক্কানী তরিকাপন্থী পীরদের ভূমিকা অতুলনীয়। তরিকতের পীর-মাশায়েখদের প্রধান কাজ হলো তাঁর মুরিদদের শিরক কুফর-বিদ’আত থেকে সতর্ক করা এবং তাদের ক্বলব পরিষ্কার রাখার পদ্ধতিগুলো বাতলে দেওয়া। 

তিনি বলেন, বায়তুশ শরফের মরহুম পীর-মুরশিদগণ সকল প্রকার ক্ষুদ্র মত পার্থক্যতার উর্ধে উঠে শরীয়ত,তরিকত ও মারেফতের যে বাগান সৃজন করেছিলেন তার সুশোভিত সৌরভে অসংখ্য পথহারা মানুষ সঠিক পথের সন্ধান পেয়েছিলেন। রাহবারে বায়তুশ শরফ বলেন, মুসলিম উম্মাহ আজ গভীর ক্রান্তিলগ্ন পার করছে। এই কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলায় উম্মতে মোহাম্মদীকে গাউছে পাক হযরত আবদুল কাদের জিলানী (রাহ.) এর কর্মপন্থা অবলম্বনের কোন বিকল্প নেই। 

পিনপতন নীরবতা ও অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে মাহফিল সুসম্পন্ন করতে পারায় বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ এর সেক্রেটারি হাফেজ মোহাম্মদ আমান উল্লাহ মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে শোকরিয়া আদায়ের পাশাপাশি বায়তুশ শরফ আনজুমনে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ, মজলিসুল ওলামা বাংলাদেশ, আনজুমনে নওজোয়ান বাংলাদেশসহ সর্বস্তরের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

0Shares