Search
Close this search box.
Search
Close this search box.

বিদেশে বসে দেওয়া হুমকির কোনো গুরুত্ব নেই: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

বিদেশে অবস্থান করে দেওয়া বক্তব্য বা হুমকির বাস্তব কোনো মূল্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি পলাতকদের উদ্যেশ্য করে বলেন, ‘সাহস থাকলে তাদের ( আওয়ামী লীগ নেতাদের) দেশে ফিরে এসে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। অন্যথায় বিদেশে বসে দেওয়া বক্তব্যের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।’

আজ বুধবার সকালে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে বিজিবির ১০৪তম রিক্রুটিং প্যারেডের সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বিজিবির ইতিহাসে রেকর্ড ৩ হাজার নবীন সদস্য শপথ গ্রহণ করলো এবার।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) প্রধান অতিথি হিসাবে নবীন সৈনিকদের শপথ গ্রহণ ও প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন। এ সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং বিজিটিসিএন্ডসি’র কমান্ড্যান্ট উপস্থিত ছিলেন।

পার্শ্ববর্তী দেশে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার পুত্রের নির্বাচনকেন্দ্রিক হুমকি ভোটারদের মধ্যে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘পলাতক ব্যক্তিরা নানা কথা বলতেই পারেন। তবে আইনের আওতায় এসে কথা বললেই কেবল সেটার গ্রহণযোগ্যতা থাকে।’
নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যেন সৃষ্টি না হয়, সে জন্য ফোর্সের সংখ্যা আরও বাড়ানো হচ্ছে। সবার সহযোগিতা থাকলে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সীমান্ত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ থাকায় সীমান্ত এলাকায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অনুপস্থিতির সুযোগে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে। তবে বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং যেকোনো ঘটনার ক্ষেত্রে কূটনৈতিকভাবে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আরাকান আর্মিকে কোনোভাবেই বৈধতা দেওয়া হয়নি। তাদের কর্মকাণ্ডের কারণে সীমান্তে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। সম্প্রতি এক শিশু গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।’ এছাড়া মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির সংঘর্ষের সময় গোলা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পড়ার বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সীমান্ত সিল করার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সীমান্তে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরে পালিয়ে থাকা সাবেক সরকারের অনুসারী রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে এমন কারও অস্তিত্ব নেই।

বিজিবির সাম্প্রতিক রিক্রুটমেন্ট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এবার রেকর্ডসংখ্যক ৩ হাজার ২৩ জন নবীন সৈনিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে, যা বিজিবির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এসব নবীন সদস্য দ্রুতই বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালন শুরু করবে।
তিনি বলেন, বড় পরিসরে এই রিক্রুটমেন্টের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে বক্তব্যে নবীন সৈনিকদের উদ্দেশ্যে উপদেষ্টা বলেন, “শৃঙ্খলা হচ্ছে সৈনিক জীবনের অলংকার। আদেশ ও কর্তব্য পালনে যে কখনো পিছপা হয় না সেই প্রকৃত সৈনিক। সততা, বুদ্ধিমত্তা, নির্ভরযোগ্যতা, আনুগত্য, তেজ ও উদ্দীপনা একটি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও পেশাগত দক্ষতার মাপকাঠি” নবীন সৈনিকরা এসব গুণাবলির প্রতিফলন ঘটিয়ে বাহিনীর ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বিজিবি’র চারটি মূলনীতি ‘মনোবল, ভ্রাতৃত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা’-এ উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত হয়ে বিজিবি’র ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুশৃঙ্খল ও সূচারুরূপে পালন করে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখন্ডতা রক্ষার সুমহান দায়িত্ব পালনে সদা জাগ্রত থাকতে নবীন সৈনিকদেরকে আহ্বান জানান।

তিনি বিজিবি’র নবীন সৈনিকদের প্রদর্শিত তেজোদীপ্ত কুচকাওয়াজের উচ্ছাসিত প্রশংসা করেন এবং নবীন সৈনিকদের নতুন জীবনে পদার্পনের শুভলগ্নে তাদের স্বাগত জানান এবং তাদের কর্মজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অব্যাহত সাফল্য কামনা করেন। উপদেষ্টা ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচে সর্ব বিষয়ে সেরা নবীন সৈনিক হিসেবে বক্ষ নং ১৫৫ রিক্রুট আল ইমরান প্রথম স্থান অর্জন করায় তাকে বিশেষ মোবারকবাদ ও অভিনন্দন জানান। এছাড়া শারীরিক উৎকর্ষতায় প্রথম স্থান অর্জনের জন্য বক্ষ নং ২৭৬৯ শপিকুল ইসলাম (পুরুষ) ও বক্ষ নং ১৫১৫ রিক্রুট লুবনা খাতুন (মহিলা) এবং শ্রেষ্ঠ ফায়ারার হওয়ার জন্য বক্ষ নং ১৩৪৭ রিক্রুট শফিকুর রহমান তামিম (পুরুষ) ও বক্ষ নং ও বক্ষ নং ১৫৩১ রিক্রুট নাহিদা আক্তার (মহিলা)-কেও অভিনন্দন জানান তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, বিজিটিসিএন্ডসি বিগত ৪৪ বছর ধরে বিজিবির রিক্রুটদের প্রশিক্ষণ দিয়ে ‘সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী’ হিসেবে গড়ে তুলছে। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত ৭২টি ব্যাচকে সফলভাবে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা ৭০০–১০০০ জন হলেও, ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচে ৩০২৩ জন (পুরুষ ২৯৫০, মহিলা ৭৩) রিক্রুটকে মৌলিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনায় এবং বিজিবি সদর দপ্তরের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলে এই চ্যালেঞ্জিং প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হয়েছে। একসাথে ৩ হাজারেরও অধিক রিক্রুটদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিজিটিসিএন্ডসি স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। নবীন রিক্রুটদের নান্দনিক কুচকাওয়াজ ও সফল আয়োজনের জন্য বিজিবি মহাপরিচালক সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান উপদেষ্টা।

সবশেষে তিনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর অব্যাহত অগ্রযাত্রা, নবীন সৈনিকদের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করেন। পরিশেষে নবীন সৈনিকদের চৌকষ দল কর্তৃক মাননীয় উপদেষ্টা’কে সশস্ত্র সালাম প্রদানের মাধ্যমে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। পরিশেষে বিজিবি’র প্রশিক্ষিত সদস্যদের অংশগ্রহণে আকর্ষণীয় ট্রিক ড্রিল এবং বিজিবি’র সুসজ্জিত বাদকদল কর্তৃক মনোজ্ঞ ব্যান্ড ডিসপ্লে প্রদর্শন করা হয়।

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের সামরিক ও বেসামরিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

0Shares