👤 সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও, কক্সবাজার
কক্সবাজারের ঈদগাঁও বাজার জাগিরপাড়া সড়কে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড বিটিসিএল’র কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জমিতে হঠাৎ করে টিনের ঘেরা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দখল-বেদখলের গুঞ্জন উঠেছে। কে বা কারা এই ঘেরা দিচ্ছে এবং এর প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল।
সরেজমিন দেখা গেছে, প্রায় মাস দেড়েক আগে ঈদগাঁও বাজারস্থ বিটিসিএল এক্সচেঞ্জ অফিসের উত্তর পাশের খালি জায়গার পশ্চিম দিকের পুরাতন সীমানা দেয়ালের ওপর আকস্মিকভাবে টিনের ঘেরা দেওয়ার কাজ শুরু হয়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ওই খালি জায়গাটি বাজারের ময়লা আবর্জনার ভাগাড় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। একই সাথে লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, স্থানীয় একটি পক্ষ কাগজপত্রের মাধ্যমে জমিটির মালিকানা দাবি করে আসছে। সম্প্রতি থেমে থেমে টিনের ঘেরার কাজ চলতে থাকায় এলাকায় দখল নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, ময়লা আবর্জনা থেকে রক্ষার অজুহাতে বিটিসিএল’র কিছু কর্মচারীর যোগসাজশে সরকারি জমিটি জবরদখলের উদ্দেশ্যে এই ঘেরা দেওয়া হতে পারে।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, ওই খালি জায়গার একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে মাছ চাষের জন্য বহিরাগতদের কাছে ভাড়া দিয়ে সংশ্লিষ্ট অফিস কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এ ধরনের অভিযোগ অতীতেও বিভিন্ন সময়ে লোকমুখে প্রচার হয়েছে।
এ বিষয়ে বিটিসিএল কক্সবাজারের সহকারী ব্যবস্থাপক টেলিকম মোঃ হোসাইনুর রশিদ স্পষ্ট কোনো বক্তব্য না দিয়ে ইনিয়ে-বিনিয়ে বলেন, তার কর্মচারীরা ময়লা থেকে রক্ষার জন্য ঘেরা দিচ্ছেন। একই সাথে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে তিনি ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে পরিদর্শনে যাবেন।
বিটিসিএল কক্সবাজারের কনিষ্ঠ সহকারী ব্যবস্থাপক বহি স্বরুপ দে জানান, তারা ঘেরা দিচ্ছেন না। পরে সিনিয়রের সাথে কথা বলে বলেন, ঘেরা তাদের পক্ষ থেকেই দেওয়া হচ্ছে। তবে তিনি ছুটিতে থাকায় বিস্তারিত জানেন না বলে জানান।
বিটিসিএল’র মুখ্য মহাব্যবস্থাপক, টেলিযোগাযোগ অঞ্চল চট্টগ্রাম সমিত চাকমা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন এবং এ বিষয়ে খোঁজ নেবেন।