
১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া পেকুয়া) আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক এনামুল হক মঞ্জু। সেই থেকে বিগত সাতটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগত কারণে শরীক দলকে ছেড়ে দিয়ে এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকার কারণে জামায়াতে ইসলামী এ আসনে ভোটের মাঠে অংশ নেয়নি।
তবে ৩৫ বছর পর আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারাদেশের মতো এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। প্রার্থী হিসেবে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমীর ও চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের বাসিন্দা তরুণ রাজনীতিবিদ আবদুল্লাহ আল ফারুককে।
ভোটের মাঠে নতুন হলেও জেলার রাজনীতি অঙ্গনে বেশ পরিচিত পেয়েছে তরুন প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক। দলীয় মনোনয়ন পেয়ে ইতোমধ্যে তিনি নির্বাচনী এলাকা চকরিয়া পেকুয়া উপজেলার প্রতিটি অঞ্চলে গণসংযোগ, প্রচার প্রচারনার মাধ্যমে দাঁড়িপাল্লা পক্ষে ব্যাপক গনজাগরণ তৈরি করেছে।
প্রতীক বরাদ্দের পর নির্বাচনী প্রচারনার দ্বিতীয় দিনে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকালে নির্বাচনী এলাকা পেকুয়ার মাটিতে দাঁড়িপাল্লা মার্কার সমর্থনে বিশাল গণমিছিল শোডাউনে নেতৃত্ব দিয়েছেন সংসদ সদস্য প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক।
অনুষ্ঠিত গণমিছিলটি হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকের অংশগ্রহণে পুরো উপজেলা সদর এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
শুক্রবারবিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পেকুয়া আনোয়ারুল উলুম মাদ্রাসা মাঠ থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়। এতে ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড, দাঁড়িপাল্লার প্রতীকী রেপ্লিকা এবং সাদা পতাকায় খচিত দলীয় লোগো ও প্রার্থীর ছবি বহন করে নেতাকর্মীরা অংশ নেন। গণমিছিল ঘিরে পেকুয়া উপজেলা সদরে ব্যাপক জনসমাগম লক্ষ্য করা যায়।
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ তথা ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক নিজেই গণমিছিলের নেতৃত্ব দেন। মিছিলটি আনোয়ারুল উলুম মাদ্রাসা মাঠ থেকে শুরু হয়ে পেকুয়া চৌমুহনী চত্বর প্রদক্ষিণ করে পেকুয়া বাজারের পশ্চিম পাশে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিল চলাকালে প্রধান প্রধান সড়কে নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
গণমিছিল শুরুর আগে পেকুয়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা আনোয়ারুল উলুম মাদ্রাসা মাঠ প্রাঙ্গণে এসে জড়ো হন। এতে সকাল থেকেই এলাকায় নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।
গণমিছিলে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ, পেকুয়া উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ইমতিয়াজ উদ্দিন, উপজেলা সেক্রেটারি নুরুল কবিরসহ জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এক ঘন্টার বেশি সময় ধরে অনুষ্ঠিত গণমিছিলে নেতাকর্মীরা দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লার পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুকের বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গণমিছিলকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা লক্ষ্য করা গেছে।
সবমিলিয়ে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থকের অংশগ্রহণে গণমিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।





