Search
Close this search box.
Search
Close this search box.

দৌঁড় দিয়ে পুলিশের কাছ থেকে বাঁচতে পারলেও প্রতিপক্ষের হামলায় মৃত্যু!

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের দরগা রাস্তার মাথা এলাকায় এক ব্যক্তিকে মারধর ও গলা টিপে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম সাইফুল ইসলাম (৪০)। তিনি দরগা রাস্তার মাথা এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। তবে তিনি শাহ আলম নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে লালনপালন হওয়ায় শাহ আলমের ছেলে হিসেবেও পরিচিত।

নিহত সাইফুলের পরিবারের অভিযোগ, রাত পৌনে একটার দিকে সাইফুলকে ধরতে ঘরে যায় পুলিশ। এসময় তিনি ঘর থেকে পাশের বিলের দিকে দৌঁড় দেন। প্রতিপক্ষের লোকজন সেখানে তাকে গলা টিপে ও মারধর করে হত্যা করেছে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় লোকজন বলেন, গত শনিবার দুপুরে স্থানীয় নুরুল ইসলাম ও ফরিদুল আলমের মধ্যে সাড়ে সাত শতক জমি নিয়ে মারামারি হয়। মারামারির ঘটনাটি ঘটে সাইফুল ইসলামের বাড়ির পাশে। ঘটনার পর তদন্তে পুলিশ গেলে সাইফুল ইসলাম পুলিশকে প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ঘটনার বর্ণনা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হন নুরুল ইসলাম। মারামারির ঘটনায় ওই দিন রাতে মামলা হলে সাইফুল ইসলামকেও আসামি করেন নুরুল ইসলামের স্ত্রী জেসমিন আকতার।

নিহত সাইফুল ইসলামের স্ত্রী রিনা আকতার (৩২) বলেন, গতরাত পৌনে একটার দিকে সাইফুলকে ধরতে ঘরে পুলিশ আসে। এসময় সাইফুল কৌশলে দৌঁড় দেন। দৌঁড়ে পুলিশ থেকে বাঁচতে পারলেও প্রতিপক্ষের লোকজন ঠিকই তাকে ধরে ফেলে। এসময় তাঁরা গলা টিপে ও মারধর করে হত্যা করে লাশ বিলে ফেলে যায়। পুলিশ চলে যাওয়ার পর সাইফুল ঘরে না ফিরলে তাকে খুঁজতে গেলে বিলে সাইফুলের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন সবাই।

পরে রাত চারটার দিকে চকরিয়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাইফুলের লাশটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরে আজ সকাল সাড়ে নয়টায় ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

জানতে চাইলে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, সাইফুল চকরিয়া থানার একটি মামলার এজাহারনামীয় আসামি। তাকে ধরতে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ যায়। তবে তাকে ঘরে না পেয়ে পুলিশ ফিরে আসে। পরে শুনি প্রতিপক্ষের লোকজন তাকে মেরে ফেলেছে। আমরা লাশ উদ্ধার করেছি। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছি। সেখানে দৃশ্যমান কোনো জখমের চিহ্ন নেই।

ওসি বলেন, সাইফুলের পরিবারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ও মৃত্যুর কারণ জানতে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটন হবে বলে আশা করছি।

প্রতিপক্ষের নুরুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায় নি। পরে তাঁর ঘরে গেলে তাকে ও তাঁর স্ত্রীকে পাওয়া যায়নি। বাড়িতে কয়েকজন শিশু রয়েছে।

2Shares